1 শমূয়েল
গ্রন্থস্বত্ব
পুস্তকটি কোনো গ্রন্থকারের দাবি করে না। যাইহোক, শমূয়েল হয়ত লিখে থাকবেন, এবং তিনি নিশ্চিত ভাবে সংবাদ পরিবেশন করেছেন 1 শমূয়েলের 1:1-24:22 এর জন্য, যাহা তার জীবনী এবং তার মৃত্যু পর্যন্ত জীবন কথা হচ্ছে। এটা খুব সম্ভব হচ্ছে যে ভাববাদী শমূয়েল পুস্তকটির অংশ বিশেষ লিখেছিলেন। 1 শমূয়েলের অন্যান্য সম্ভাব্য যোগদানকারী হচ্ছেন ভাববাদী, ঐতিহাসিক নাথান এবং গাদ (1 বংশাবলী 29:29)
রচনার সময় এবং স্থান
আনুমাণিক 1050 থেকে 722 খ্রিষ্টপূর্বাব্দের মধ্যবর্তী সময়।
তাহলে লেখক পুস্তকটি লিখেছিলেন ইস্রায়েল এবং যিহুদার রাজত্ব বিভাজনের পরে, ইস্রায়েল এবং যিহুদার স্বতন্ত্র অস্তিত্তের বহু উল্লেখ সমূহ থেকে এটা স্পষ্ট হয় (1 শমূয়েল. 11:8; 17:52; 18:16; 2 শমূয়েল 5:5; 11:11; 12:8; 19:42-43; 24:1, 9)
গ্রাহক
পুস্তকটির প্রকৃত পাঠক ছিল ইস্রায়েল এবং যিহুদার বিভক্ত রাজতন্ত্রের সদস্যগণ, যাদের দাউদ রাজবংশের বৈধতা এবং উদ্দেশ্যর ওপর একটি স্বর্গীয় পটভূমিকার প্রয়োজন ছিল।
উদ্দেশ্য
প্রথম শমূয়েল কনান দেশে ইস্রায়েলের ইতিহাসকে নথিভুক্ত করে যেই তারা বিচারকতৃদের শাসন থেকে রাজাদের অধীনে একটি সংযুক্ত জাতি হওয়ার অভিমুখে অগ্রসর হয়। শেষ বিচারক রূপে শমূয়েলের উত্থান হয়, এবং তিনি প্রথম দুই রাজা শৌল এবং দাউদকে অভিষিক্ত করেন।
বিষয়
ক্রান্তিকাল
রূপরেখা
1. শমূয়েলের জীবন এবং সেবাকার্য্য — 1:1-8:22
2. ইসরায়েলের প্রথম রাজা রূপে সৌলের জীবনী — 9:1-12:25
3. রাজা হিসাবে সৌলের ব্যর্থতা — 13:1-15:35
4. দাউদের জীবন — 16:1-20:42
5. ইসরায়েলের রাজা রূপে দাউদের অভিজ্ঞতা — 21:1-31:13
শমূয়েলের জন্ম৷
1
ইফ্রয়িমের পাহাড়ী এলাকায় রামাথয়িম (গ্রামের) সোফীম শহরে ইলকানা নামে একজন লোক ইফ্রয়িম গোষ্ঠীর লোকদের সঙ্গে বাস করতেন। তাঁর বাবার নাম ছিল যিরোহম। যিরোহম ছিলেন ইলীহূর ছেলে, ইলীহূ ছিলেন তোহের ছেলে এবং তোহ ছিলেন সুফের ছেলে। তাঁর দুইজন স্ত্রী ছিল; এক জনের নাম হান্না আর অন্য জনের নাম পনিন্না। পনিন্নার ছেলেমেয়ে হয়েছিল, কিন্তু হান্নার কোনো ছেলেমেয়ে হয়নি। এই ব্যক্তি প্রত্যেক বছর তাঁর শহর থেকে শীলোতে গিয়ে বাহিনীগণের সদাপ্রভুর উপাসনা ও বলিদান করতেন। সেখানে এলির দুই ছেলে হফ্‌নি ও পীনহস সদাপ্রভুর যাজক ছিল। যজ্ঞের দিনের ইলকানা তাঁর স্ত্রী পনিন্না ও তাঁর সব ছেলে মেয়েদের ভাগ দিতেন। কিন্তু হান্নাকে দু* যদিও ইলকানা হান্নাকে ভালো বাসতেন তবুও তিনি তাকে এক ভাগই দিতেন ই ভাগ দিতেন, কারণ তিনি হান্নাকে ভালবাসতেন। কিন্তু সদাপ্রভু হান্নাকে বন্ধ্যা করে রেখেছিলেন। সদাপ্রভু তাঁকে বন্ধ্যা রেখেছিলেন বলে তাঁর সতীন (প্রতিদ্বন্দী স্ত্রী) তাঁকে দুঃখ দেবার চেষ্টায় বিরক্ত করে তুলত। বছরের পর বছর হান্না যখনই সদাপ্রভুর ঘরে যেতেন তখন তাঁর স্বামী ঐরকম করতেন এবং পনিন্না তাঁকে ঐভাবে বিরক্ত করতেন; তাই তিনি কিছু না খেয়ে কান্নাকাটি করতেন। তাতে তাঁর স্বামী ইলকানা তাঁকে বলতেন, “হান্না, কেন কাঁদছ? কেন কিছু খাচ্ছ না? তোমার মনে এত দুঃখ কেন? আমি কি তোমার কাছে দশটা ছেলের চেয়েও বেশী না?” এক দিন শীলোতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে হান্না উঠলেন৷ তখন এলি সদাপ্রভুর মন্দিরের দরজার কাছে যাজকের আসনে বসে ছিলেন। 10 হান্না প্রচণ্ড দুঃখে সদাপ্রভুর কাছে কাতর স্বরে কেঁদে প্রার্থনা করতে লাগলেন। 11 তিনি মানত করে বললেন, “হে বাহিনীগণের সদাপ্রভু, যদি তুমি তোমার এই দাসীর দুঃখের প্রতি মনোযোগ দাও, আমাকে স্মরণ কর এবং তোমার দাসীকে ভুলে না গিয়ে তোমার এই দাসীকে যদি একটা ছেলে দাও তবে সারা জীবনের জন্য আমি তাকে সদাপ্রভুর উদ্দেশ্যে দান করব; তার মাথায় ক্ষুর লাগানো হবে না।” 12 যতক্ষণ হান্না সদাপ্রভুর কাছে দীর্ঘ প্রার্থনা করলেন ততক্ষণ এলি তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলেন। 13 হান্না মনে মনে কথা বলছিলেন, তাঁর ঠোঁট নড়ছিল, কিন্তু গলার আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল না। সেইজন্য এলি তাঁকে মাতাল ভাবলেন। 14 তাই এলি তাঁকে বললেন, “তুমি কতক্ষণ মাতাল হয়ে থাকবে? আঙ্গুর রস তোমার থেকে দূর কর।” 15 হান্না উত্তরে বললেন, “হে আমার প্রভু, তা নয়। আমি দুঃখিনী স্ত্রী, আমি আংগুর-রস কিংবা মদ পান করি নি। সদাপ্রভুর সামনে আমার মনের কথা ভেঙে বলেছি। 16 আপনার এই দাসীকে আপনি একজন মন্দ স্ত্রী দুষ্টের কন্যা লোক মনে করবেন না। আসলে আমার চিন্তা ও মনের দুঃখের জন্য আমি এতক্ষণ কথা বলছিলাম।” 17 তখন এলি উত্তর দিলেন, “তুমি শান্তিতে যাও; ইস্রায়েলীয়দের ঈশ্বরের কাছে তুমি যা চাইলে, তা যেন তিনি তোমাকে দেন।” 18 হান্না বললেন, “আপনার দৃষ্টিতে আপনার এই দাসী অনুগ্রহ পাক।” এই বলে তিনি তার পথে চলে গেলেন এবং খাওয়া দাওয়া করলেন। তাঁর মুখে আর দুঃখের ছায়া থাকল না। 19 পরে তাঁরা খুব ভোরে উঠে সদাপ্রভুর উপাসনা করলেন এবং রামায় তাঁদের নিজেদের বাড়িতে ফিরে গেলেন। পরে ইলকানা তাঁর স্ত্রী হান্নার সঙ্গে মিলিত হলে সদাপ্রভু তাঁকে স্মরণ করলেন। 20 তাতে নির্দিষ্ট দিনের হান্না গর্ভবতী হয়ে একটি ছেলের জন্ম দিলেন, আর আমি সদাপ্রভুর কাছ থেকে তাকে চেয়ে নিয়েছি, এই বলে তার নাম শমূয়েল রাখলেন।
হান্না শমূয়েলকে উত্সর্গ করলেন
21 পরে তাঁর স্বামী ইলকানা ও তাঁর সমস্ত পরিবার সদাপ্রভুর উদ্দেশ্যে বার্ষিক বলিদান ও মানত নিবেদন করতে গেলেন, 22 কিন্তু হান্না গেলেন না, কারণ তিনি স্বামীকে বললেন, “ছেলেটিকে বুকের দুধ ছাড়ানোর পর আমি তাকে নি আমি তাকে সেখানে সর্বদা আশ্বীর্বাদ দেব য়ে যাব, তাতে সে সদাপ্রভুর সামনে উপস্থিত হয়ে সবদিন সেখানেই থাকবে।” 23 তাঁর স্বামী ইলকানা তাঁকে বললেন, “তোমার দৃষ্টিতে যা ভাল মনে হয় তাই কর; তার দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত তুমি অপেক্ষা কর; সদাপ্রভু শুধু তাঁর বাক্য পূরণ করুন।” অতএব সেই স্ত্রী বাড়ীতেই রয়ে গেলেন এবং ছেলেটিকে দুধ না ছাড়ানো পর্যন্ত তাকে দুধ পান করালেন। 24 পরে তার দুধ ছাড়ার পর তিনি তিনটি ষাঁ§ তিন বছরের ষাঁড় ড়, এক ঐ* প্রায় 10 কিলোগ্রাম ফা সুজী ও এক থলি আংগুর-রসের সঙ্গে তাকে শীলোতে সদাপ্রভুর বাড়িতে নিয়ে গেলেন; তখন ছেলেটির অল্প বয়স ছিল। 25 পরে তাঁরা ষাঁড় বলিদান করলেন এবং ছেলেটিকে এলির কাছে নিয়ে গেলেন। 26 আর হান্না বললেন, “হে আমার প্রভু, আপনার প্রাণের দিব্যি, হে আমার প্রভু, যে স্ত্রী সদাপ্রভুর উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করতে করতে এখানে আপনার সামনে দাঁড়িয়েছিল, আমিই সেই। 27 আমি এই ছেলেটির জন্য প্রার্থনা করেছিলাম আর সদাপ্রভুর কাছে যা চেয়েছিলাম তা তিনি আমাকে দিয়েছেন। 28 সেইজন্য আমিও একে সদাপ্রভুকে দিলাম, এ সারা জিবনের জন্য সদাপ্রভুরই থাকবে।” পরে তাঁরা সেখানে সদাপ্রভুর উপাসনা করলেন।

*1:5 যদিও ইলকানা হান্নাকে ভালো বাসতেন তবুও তিনি তাকে এক ভাগই দিতেন

1:16 দুষ্টের কন্যা

1:22 আমি তাকে সেখানে সর্বদা আশ্বীর্বাদ দেব

§1:24 তিন বছরের ষাঁড়

*1:24 প্রায় 10 কিলোগ্রাম